Home / Blog / হার্নিয়া রোগের লক্ষণ কি? — বিস্তারিত তথ্য
হার্নিয়া রোগের লক্ষণ কি? — বিস্তারিত তথ্য
হার্নিয়া একটি খুবই সাধারণ কিন্তু কখনো কখনো জীবনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এমন শারীরিক সমস্যা। বিশেষ করে যদি সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না করা হয়। তাই হার্নিয়া রোগের লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা খুবই জরুরি। আজকের এই লেখায় আমরা হার্নিয়া কী, এর লক্ষণ, কারণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
হার্নিয়া (Hernia) হলো শরীরের এমন এক অবস্থা যখন অভ্যন্তরীণ অঙ্গ বা টিস্যু দেহের স্বাভাবিক স্থান থেকে সরে এসে পেশির দুর্বল কোনো অংশের মধ্য দিয়ে স্ফীত বা বেরিয়ে আসে। সাধারণত পেটে বা বগলে হার্নিয়া বেশি দেখা যায়, কিন্তু শরীরের অন্যান্য স্থানে ও হতে পারে।
ইনগুইনাল হার্নিয়া (Inguinal Hernia): এটি সবচেয়ে সাধারণ, পায়ুপথের (inguinal canal) মাধ্যমে পেটের অংশ বের হয়ে আসে। পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।
ফেমোরাল হার্নিয়া (Femoral Hernia): বগলের নিচে পায়ের উপরের দিকে দেখা যায়, সাধারণত নারীদের মধ্যে বেশি।
অম্বিলিকাল হার্নিয়া (Umbilical Hernia): পেটের নাভি (নাভি) এলাকায়।
ইনসিশনাল হার্নিয়া (Incisional Hernia): আগে করা অপারেশনের চিরুরেখা থেকে।
হাইয়েটাল হার্নিয়া (Hiatal Hernia): পাকস্থলীর উপরের অংশ ও খাদ্যনালীর সংযোগস্থলে।
হার্নিয়া রোগের লক্ষণ অনেক ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। তবে কিছু সাধারণ ও স্পষ্ট লক্ষণ আছে, যেগুলো লক্ষ্য করলে সময় মতো চিকিৎসা নেয়া সম্ভব।
১. গায়ে ফোলা বা স্ফীতি
হার্নিয়ার সবচেয়ে প্রধান লক্ষণ হলো শরীরে বিশেষ কোনো স্থানে ফোলা বা স্ফীতি দেখা দেয়। সাধারণত বগল, পেটের নাভি বা পাশের অংশে এই ফোলাভাব লক্ষ্য করা যায়। ফোলা স্পর্শ করলে নরম বা মাঝে মাঝে শক্ত অনুভব হতে পারে।
২. ব্যথা বা অস্বস্তি
ফোলার স্থানে হালকা থেকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে, বিশেষ করে:
ভারী জিনিস তোলার সময়
কাঁধ বা পেটের উপর চাপ পড়লে
হাঁটা বা দৌড়ানোর সময়
৩. অস্বাভাবিক টান বা চাপ অনুভূতি
কিছু রোগী হার্নিয়ার কারণে পেটের ভিতরে টান বা চাপ অনুভব করেন, যা কিছুটা অস্বস্তিকর হয়।
৪. ব্যথা ছাড়াও পোড়া বা ঝনঝনানি অনুভূতি
কিছু ক্ষেত্রে হার্নিয়া স্থানে পোড়া বা ঝনঝনানি অনুভূতি হতে পারে, যা পেশির সংকোচনের কারণে হয়।
৫. কফোলা বা ফোলা স্থান সহজেই চাপ দিলে ছোট হয়ে যায়
হার্নিয়ার ফোলা বা গায়ের ফোলা অংশ হাতে চাপ দিলে অনেক সময় সেটা অর্ধেক বা সম্পূর্ণ মলিন হয়ে যায় এবং বিশ্রামে থাকে।
৬. পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা
হাইয়েটাল হার্নিয়া থাকলে পেটে জ্বালা, গ্যাস, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় বা খিদে কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৭. অসাড়তা ও বমি বমি ভাব (জটিল ক্ষেত্রে)
যদি হার্নিয়া টিস্যুর রক্ত সঞ্চালন বিঘ্নিত করে, তবে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, ও প্রস্রাবের সমস্যাও হতে পারে। এই অবস্থাকে স্ট্রাংগুলেটেড হার্নিয়া বলে এবং এটি জরুরি চিকিৎসার বিষয়।
হার্নিয়ার কারণ
দীর্ঘ সময় ভারি জিনিস তোলা
সিরিয়াল ও ইনফরমেশন এর জন্য কল করুন - 01902991500 (সকাল ১০:০০ টা হতে রাত ০১০:০০ টা, শুক্রবার ব্যাতিত)
গর্ভাবস্থা ও ওজন বৃদ্ধি
ক্রনিক কাশি বা হাঁপানি
পুরোনো অপারেশনের সাইড ইফেক্ট
দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করা
বয়সজনিত পেশি দুর্বলতা
কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?
ফোলাভাব দ্রুত বাড়ছে
তীব্র বা অবিরাম ব্যথা
বমি বা বমি বমি ভাব
পেটে ফোলার অংশ চাপ দিলে ছোট হচ্ছে না
প্রস্রাবের সমস্যা বা পায়ে ব্যথা
এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে একজন সাধারণ সার্জন বা হার্নিয়া বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
হার্নিয়ার চিকিৎসা
হার্নিয়ার সম্পূর্ণ সমাধান হলো সার্জারির মাধ্যমে। বিভিন্ন ধরনের সার্জারি পদ্ধতি আছে, যেমন ওপেন সার্জারি, ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি ইত্যাদি। সাধারণত লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু হয়।
হার্নিয়া রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো জানাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে যে কোনো অস্বাভাবিক ফোলা, ব্যথা বা চাপ অনুভূতি হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। নিয়মিত ওজন নিয়ন্ত্রণ, ভারি জিনিস তোলা এড়ানো, ও সুস্থ জীবনযাপন হার্নিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে।
আপনি যদি হার্নিয়া নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চান অথবা কোনো প্রশ্ন থাকে, মন্তব্যে জানাতে পারেন।
সিরিয়াল ও ইনফরমেশন এর জন্য কল করুন - 01902991500 (সকাল ১০:০০ টা হতে রাত ০১০:০০ টা, শুক্রবার ব্যাতিত)
আপনার ব্লগের জন্য আরও সাহায্য দরকার হলে বলবেন!
20 Nov
20 Nov
20 Nov
20 Nov
19 Nov
19 Nov
20 Nov
20 Nov
20 Nov
20 Nov
19 Nov
19 Nov
Get all the latest updates easily