বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডাক্তার এপয়েন্টমেন্ট প্লাটফর্মে আপনাকে স্বাগতম । Welcome to The Most Popular Doctor Appointment Platform in Bangladesh.

Home / Blog / ঢাকায় ব্লাডার স্টোন অপারেশন ডাক্তার — ২০২৬

ঢাকায় ব্লাডার স্টোন অপারেশনের সেরা ডাক্তার তালিকা
To Book an Appointment
Call Us  +880 1902991500

ঢাকায় ব্লাডার স্টোন অপারেশন ডাক্তার — ২০২৬

By Admin
Apr 01 , 2026 | 0 min read

ঢাকায় ব্লাডার স্টোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও সার্জনদের তালিকা (২০২৬)

বর্তমান সময়ে ইউরোলজি (Urology) বা মূত্রতন্ত্র ও কিডনি সম্পর্কিত সমস্যার চিকিৎসা অনেকের জন্যই জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরুষ, নারী, কিংবা শিশু — যে কারও ইউরোলজিজনিত সমস্যা হতে পারে, যেমন কিডনির পাথর, প্রস্রাবের জটিলতা, প্রোস্টেটের সমস্যা, কিংবা সার্জারির প্রয়োজনীয়তা। এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ইউরোলজি ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

প্রস্রাব, প্রজনন, বা যৌনাঙ্গের রোগ হলে অনেকের মধ্যেই একধরনের অস্বস্তি কাজ করে। লজ্জা, দ্বিধা, আর ভয়ের কারণে এসব বিষয়ে খোলামেলা কথা বলতে চান না অনেকেই। কিন্তু এই সমস্যাগুলো দেখা দিলে আসলে একজন ইউরোলজিস্টের কাছে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান। একজন অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্ট প্রয়োজনীয় পরীক্ষা আর রোগীর সাথে খোলাখুলি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটা খুঁজে বের করেন।

ইউরোলজিস্টরা পুরুষ ও নারী, উভয়েরই প্রস্রাব, প্রজনন, এবং যৌনাঙ্গ সম্পর্কিত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করেন। নিচে ঢাকার সেরা ইউরোলজিস্ট ডাক্তারদের একটা তালিকা শেয়ার করা হলো, যাতে আপনি সঠিক বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে চিকিৎসা শুরু করতে পারেন।

ডাঃ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

বিশেষত্ব: কিডনি, ইউরেথ্রোলজি, মূত্রাশয়, প্রস্টেট সমস্যা, পুরুষ রোগ, বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ সার্জন যোগ্যতা: এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (ইউরোলজি)

ডা. সাইফুল ইসলাম একজন অভিজ্ঞ ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন। কিডনি, মূত্রাশয়, ইউরেথ্রোলজি, প্রস্টেটজনিত সমস্যা, পুরুষ রোগ, এবং বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় তিনি বেশ দক্ষ। আধুনিক ইউরোলজিক্যাল সার্জারি ও রোগ নির্ণয়ে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা আছে, এবং সঠিক পরামর্শ ও নিরাপদ সার্জারি দিতে তিনি সবসময় সচেষ্ট থাকেন।

চেম্বার: প্লট নং-১০, রোড-৪/৫, ব্লক-বি, সেকশন-১২ (কালশী রোড), মিরপুর, ঢাকা-১২১৬

সিরিয়াল ও তথ্যের জন্য কল করুন: 01902991500 (সকাল ১০:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা, শুক্রবার বাদে)

অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডা. মোহাম্মদ আলম

বিশেষত্ব: সাধারণ সার্জন, কিডনি বিশেষজ্ঞ, ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন, ইউরোলজিস্ট, কোলোরেক্টাল সার্জন যোগ্যতা: MBBS, FCPS (Surgery), FCPS (Urology), MCPS (Surgery), FRCS (Glasg), MRCS (Glasg), FMAS (India), DMAS (India), FACS (USA), FICS (USA)

ডা. আলম সিএমএইচ ঢাকায় ইউরোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে কাজ করছেন। অত্যাধুনিক ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি, এবং কিডনি ও মূত্রনালীর চিকিৎসায় তিনি বিশেষভাবে দক্ষ। তাঁর আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ আর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই তাঁকে এই ক্ষেত্রে আলাদা করে তুলেছে।

অবস্থান: মিরপুর, ঢাকা

সিরিয়াল ও তথ্যের জন্য কল করুন: 01902991500 (সকাল ১০:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা, শুক্রবার বাদে)

অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডা. মারুফ আহমেদ

বিশেষত্ব: ইউরোলজিস্ট যোগ্যতা: MBBS, BCS, MS (Urology)

ডা. মারুফ মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। মূত্রনালী ও প্রোস্টেট সমস্যায় তিনি একজন নির্ভরযোগ্য চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।

অবস্থান: মিরপুর, ঢাকা

সিরিয়াল ও তথ্যের জন্য কল করুন: 01902991500 (সকাল ১০:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা, শুক্রবার বাদে)

ডাঃ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (BSMMU)

বিশেষত্ব: ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন যোগ্যতা: এমবিবিএস (এসএসএমসি), এমএস (ইউরোলজি) (বিএসএমএমইউ)

চেম্বার: প্লট নং-১০, রোড-৪/৫, ব্লক-বি, সেকশন-১২ (কালশী রোড), মিরপুর, ঢাকা-১২১৬

সিরিয়াল ও তথ্যের জন্য কল করুন: 01902991500 (সকাল ১০:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা, শুক্রবার বাদে)

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ ইমতিয়াজ এনায়েত উল্লাহ

বিশেষত্ব: ইউরোলজিস্ট যোগ্যতা: এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (ইউরোলজি) কর্মস্থল: জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট (NIKDU)

চেম্বার: প্লট ২৯-৩০, ব্লক-খ, রোড-০১, সেকশন-৬, মিরপুর-১০, গোলচত্বর, ঢাকা-১২১৬ (মিরপুর ফায়ার সার্ভিসের বিপরীতে)

সিরিয়াল ও তথ্যের জন্য কল করুন: 01902991500 (সকাল ১০:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা, শুক্রবার বাদে)

ডাঃ মোঃ নাবিদ আলম

বিশেষত্ব: কনসালটেন্ট ইউরোলজিস্ট যোগ্যতা: এমবিবিএস, এমএস (ইউরোলজি) কর্মস্থল: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল), ঢাকা

চেম্বার: প্লট নং-১০, রোড-৪/৫, ব্লক-বি, সেকশন-১২ (কালশী রোড), মিরপুর, ঢাকা-১২১৬

সিরিয়াল ও তথ্যের জন্য কল করুন: 01902991500 (সকাল ১০:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা, শুক্রবার বাদে)

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ খান নজরুল ইসলাম

বিশেষত্ব: ইউরোলজিস্ট যোগ্যতা: এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (ইউরোলজি) কর্মস্থল: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনী ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (NIKDU), শেরেবাংলা নগর, ঢাকা

চেম্বার: মিরপুর-১১, বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স, পল্লবী, ঢাকা-১২১৬

সিরিয়াল ও তথ্যের জন্য কল করুন: 01902991500 (সকাল ১০:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা, শুক্রবার বাদে)

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ শরীফ শাহজামাল

বিশেষত্ব: ইউরোলজিস্ট যোগ্যতা: এমবিবিএস (ঢাকা), এমএস (ইউরোলজি), WHO ফেলোশিপ (ভারত), URC ইউরোলজি ফেলোশিপ (সিঙ্গাপুর) কর্মস্থল: ন্যাশনাল কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতাল

চেম্বার: ১, ২, ৩, বিএনএসবি ভবন, কলওয়ালাপাড়া, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬ (সনি সিনেমা হলের বিপরীতে)

সিরিয়াল ও তথ্যের জন্য কল করুন: 01902991500 (সকাল ১০:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা, শুক্রবার বাদে)

ডাঃ তৌফিক-ই-ইলাহী (সবুজ)

বিশেষত্ব: ইউরোলজি যোগ্যতা: এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (ইউরোলজি) (ঢাকা মেডিকেল কলেজ), American Urological Association (AUA)-এর সদস্য কর্মস্থল: NIKDU

চেম্বার: ১০৪১/২এ, পূর্ব শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬

সিরিয়াল ও তথ্যের জন্য কল করুন: 01902991500 (সকাল ১০:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা, শুক্রবার বাদে)

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মারুফ আহমেদ (মুগদা)

বিশেষত্ব: ইউরোলজিস্ট যোগ্যতা: এমবিবিএস, বিসিএস, এমএস (ইউরোলজি) কর্মস্থল: মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইউরোলজি বিভাগ

চেম্বার: প্লট নং-১০, রোড-৪/৫, ব্লক-বি, সেকশন-১২ (কালশী রোড), মিরপুর, ঢাকা-১২১৬

সিরিয়াল ও তথ্যের জন্য কল করুন: 01902991500 (সকাল ১০:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা, শুক্রবার বাদে)

অধ্যাপক ডাঃ এম. ফখরুল ইসলাম

বিশেষত্ব: ইউরোলজি ও সার্জন যোগ্যতা: এমবিবিএস, পিএইচডি, WHO ফেলো (ভারত ও থাইল্যান্ড) কর্মস্থল: বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইউরোলজি বিভাগ — অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

সিরিয়াল ও তথ্যের জন্য কল করুন: 01902991500 (সকাল ১০:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা, শুক্রবার বাদে)

ডাঃ মুহাম্মদ জিয়া উদ্দিন

বিশেষত্ব: ইউরোলজি, পুরুষ প্রজননতন্ত্র বিশেষজ্ঞ ও সার্জন যোগ্যতা: এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), FCPS (ইউরোলজি) কর্মস্থল: NIKDU

চেম্বার: হেলথ ল্যাবস লিঃ ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টার, মিরপুর, ঢাকা

সিরিয়াল ও তথ্যের জন্য কল করুন: 01902991500 (সকাল ১০:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা, শুক্রবার বাদে)

ব্লাডার স্টোন অপারেশন কী, আর কেন হয়?

ব্লাডার স্টোন হলো মূত্রথলিতে জমে থাকা খনিজ পদার্থের শক্ত পাথরের মতো গঠন, যা সাধারণত মূত্র জমে থাকা, ইনফেকশন, বা প্রোস্টেট/মূত্রনালীর সমস্যার কারণে তৈরি হয়। পাথর ছোট হলে অনেক সময় প্রস্রাবের সাথে নিজে নিজেই বের হয়ে যায়, কিন্তু বড় হয়ে গেলে অপারেশন ছাড়া সাধারণত আর কোনো উপায় থাকে না।

দীর্ঘদিন না সারালে ব্লাডার স্টোন থেকে যা যা হতে পারে: তীব্র প্রস্রাবের ব্যথা ও জ্বালাপোড়া, বারবার প্রস্রাবের চাপ, প্রস্রাবে রক্ত আসা, ঘনঘন ইনফেকশন (UTI), এমনকি শেষ পর্যন্ত কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত একজন ইউরোলজি বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ব্লাডার স্টোনের সাধারণ উপসর্গ

নিচের লক্ষণগুলোর কোনো একটা বা একাধিক থাকলে সতর্ক হওয়া দরকার: প্রস্রাবের সময় নিচের পেটে, লিঙ্গ বা যোনিপথে ব্যথা; প্রস্রাবের সময় প্রচণ্ড জ্বালা বা কাঁপুনি; প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া বা রক্ত মেশানো দেখা যাওয়া; রাতে বারবার টয়লেটে যাওয়া; প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া বা মাঝপথে থেমে যাওয়া; পুরুষদের ক্ষেত্রে নিচের পিঠ বা অণ্ডকোষে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা; আর দীর্ঘদিন থাকলে দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, জ্বর বা ঠান্ডা লাগার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

এসব উপেক্ষা করলে ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতাও কমে যেতে পারে, তাই দেরি না করে বিশেষজ্ঞ দেখানো উচিত।

কোন ডাক্তার দেখাবেন?

ব্লাডার স্টোনের মূল চিকিৎসক হলেন একজন ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার (Urologist)। কিছু ক্ষেত্রে নেফ্রোলজিস্ট (কিডনি বিশেষজ্ঞ) বা জেনারেল সার্জনও জড়িত থাকতে পারেন, তবে অপারেশন ও পুরো ম্যানেজমেন্ট সাধারণত ইউরোলজিস্টই সামলান।

ঢাকার ইউরোলজি বিশেষজ্ঞরা সাধারণত এই ধরনের সমস্যাগুলো দেখেন: মূত্রথলি ও মূত্রনালীর পাথর, কিডনি স্টোন, প্রোস্টেট বড় হওয়া, মূত্রথলির ইনফেকশন ও ক্যান্সার, পুরুষের যৌন সমস্যা ও ইনফার্টিলিটি, এবং ইনকন্টিনেন্স (প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা)।

ডাক্তার বেছে নেওয়ার সময় কিছু জিনিস খেয়াল রাখা ভালো — তিনি ইউরোলজি বা ইউরোলজিক সার্জারিতে এমএস/এফসিপিএস করেছেন কিনা, সরকারি বা বড় প্রাইভেট হাসপাতালে কাজের অভিজ্ঞতা আছে কিনা, ব্লাডার স্টোন অপারেশনে তাঁর দক্ষতা ও সফল কেসের সংখ্যা কেমন, এবং রোগীদের রিভিউ ও পরিচিতদের অভিজ্ঞতা কী বলে।

ঢাকায় ব্লাডার স্টোন অপারেশন — কী কী পদ্ধতি আছে?

পাথরের আকার, সংখ্যা, অবস্থান, রোগীর বয়স, এবং অন্যান্য শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে অপারেশনের পদ্ধতি ঠিক করা হয়। সাধারণত প্রচলিত কয়েকটি পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো।

এন্ডোস্কোপিক / সিস্টোস্কোপি দিয়ে পাথর ভেঙে বের করা

এটি এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আধুনিক পদ্ধতি, যেখানে পেট কাটার দরকার হয় না। মূত্রনালীর মাধ্যমে একটি পাতলা ক্যামেরা (সিস্টোস্কোপ) ঢোকানো হয়, এরপর পাথরকে লেজার, আল্ট্রাসাউন্ড, বা মেকানিক্যাল ডিভাইস দিয়ে ছোট ছোট টুকরায় ভেঙে ফেলা হয়। তারপর সেই টুকরাগুলো ফ্লাশিং বা ছোট যন্ত্র দিয়ে বের করে আনা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগী ১-২ দিনেই বাড়ি ফিরতে পারেন। কম ব্যথা, দ্রুত রিকভারি, আর কাটা দাগ না থাকাটাই এর সবচেয়ে বড় সুবিধা।

ওপেন সার্জারি (Open Cystolithotomy)

এটি পুরোনো পদ্ধতি হলেও এখনও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়, বিশেষত বড় বা জটিল পাথরের ক্ষেত্রে। পেটের নিচের দিকে একটা ছোট কাটা দিয়ে মূত্রথলি খুলে পাথর বের করা হয়, আর প্রোস্টেট বড় হওয়া বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে একই সাথে সেটাও সামলানো যায়। রিকভারিতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে — ৩-৫ দিন হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। যাদের পাথর খুব বড়, একাধিক পাথর আছে, বা আগের অপারেশন/অন্য রোগের কারণে এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতি ঝুঁকিপূর্ণ, তাদের জন্য এই পদ্ধতিই বেশি কার্যকর।

ESWL বা লিথোট্রিপসি

কিছু ক্ষেত্রে বাইরে থেকে শক ওয়েভ দিয়ে পাথর ভেঙে টুকরো করা হয়, যাতে সেগুলো প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যেতে পারে। সব ধরনের ব্লাডার স্টোনে এটা উপযোগী না, তাই রিপোর্ট দেখে ইউরোলজিস্টই সিদ্ধান্ত নেবেন কোন পদ্ধতি কাজ করবে।

অপারেশনের আগে কী কী পরীক্ষা লাগে?

অপারেশনের আগে সাধারণত যেসব পরীক্ষা করা হয়: আল্ট্রাসনোগ্রাফি (KUB বা পুরো অ্যাবডোমেন) পাথরের আকার ও অবস্থান জানতে, ইউরিন টেস্ট ইনফেকশন বা রক্ত আছে কিনা দেখতে, রক্ত পরীক্ষা (CBC, ক্রিয়েটিনিন, ইউরিয়া, শর্করা, ব্লাড গ্রুপ), প্রয়োজনে এক্সরে বা CT স্ক্যান, ইসিজি (বিশেষত বয়স্ক বা হার্টের রোগীদের জন্য), এবং কখনো কখনো চেস্ট এক্সরে। এই রিপোর্টগুলো দেখেই ডাক্তার অপারেশনের ধরন, অ্যানেসথেসিয়া (পুরো ঘুম বা স্পাইনাল), এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা ঠিক করেন।

ঢাকায় ব্লাডার স্টোন অপারেশনের আনুমানিক খরচ (২০২৬)

হাসপাতাল, পদ্ধতি, রোগীর অবস্থা, আর ভর্তি থাকার দিনের সংখ্যা অনুযায়ী খরচ কম-বেশি হয়। নিচে শুধু একটা সাধারণ ধারণা দেওয়া হলো; প্রকৃত খরচ জানতে সবসময় নির্বাচিত হাসপাতাল থেকে আলাদাভাবে কোটেশন নেওয়া উচিত।

সরকারি বা স্বল্পখরচের হাসপাতালে কেবিন, ওষুধ, ও টেস্ট মিলিয়ে খরচ তুলনামূলক কম থাকে, যদিও অনেক সময় ওয়ার্ডে জায়গার সংকট আর লম্বা সিরিয়ালের সমস্যা থাকতে পারে। মাঝারি মানের প্রাইভেট হাসপাতালে এন্ডোস্কোপিক অপারেশনের মোট খরচ সাধারণত ৪০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে — একাধিক দিন কেবিনে থাকা বা অতিরিক্ত জটিলতা হলে খরচ বাড়তে পারে। হাই-এন্ড প্রাইভেট বা কর্পোরেট হাসপাতালে উন্নত সুবিধা, আধুনিক OT, এবং অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্টের কারণে মোট খরচ ৮০,০০০ টাকা বা তার বেশি পর্যন্ত হতে পারে।

মনে রাখবেন, এগুলো শুধু সাধারণ রেঞ্জ — ব্যক্তিভেদে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কম-বেশি হতে পারে। ইনস্যুরেন্স বা কর্পোরেট প্যানেলের রোগীদের জন্য খরচের একটা অংশ কভার হতে পারে, তাই আগে থেকেই হাসপাতালের বিলিং বিভাগে জেনে নেওয়া ভালো।

অপারেশনের ধাপ — রোগীর অভিজ্ঞতা কেমন হয়?

ঢাকায় ব্লাডার স্টোন অপারেশন করতে গেলে একজন রোগী সাধারণত যে ধাপগুলো পার হন তা এরকম। প্রথমে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে সমস্যাটা বলা হয়, এরপর টেস্ট ও ইমেজিং করে রোগ নিশ্চিত করা হয়, তারপর অপারেশনের পদ্ধতি, ঝুঁকি, খরচ, ও প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করে অপারেশনের তারিখ ঠিক হয়।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হয় সাধারণত অপারেশনের আগের দিন, যেখানে নার্স ও ডাক্তাররা ব্লাড প্রেসার, সুগার-সহ সাধারণ চেকআপ করেন। অপারেশনের দিন রোগীকে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয় (পুরো ঘুম বা কোমর থেকে নিচে অসাড়), নির্বাচিত পদ্ধতিতে পাথর বের করা হয়, এরপর কিছু সময় রিকভারি রুমে রাখা হয় পর্যবেক্ষণের জন্য।

অপারেশনের পর সাধারণত কয়েক ঘণ্টা থেকে ১-৩ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। ক্যাথেটার কিছুদিন থাকতে পারে, ডাক্তারই বলে দেবেন কবে খোলা হবে, পাশাপাশি ব্যথা কমানোর ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিকও দেওয়া হয়। ডিসচার্জের পর ডাক্তারের দেওয়া ডায়েট, পানি পান, ওষুধ, ও চলাফেরার নিয়ম মেনে চলতে হয়, এবং সাধারণত ৭-১৪ দিন পর আবার ফলো-আপ করতে হয়।

অপারেশনের ঝুঁকি ও জটিলতা

যেকোনো অপারেশনের মতোই ব্লাডার স্টোন অপারেশনেও কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকি থাকে, যদিও দক্ষ ইউরোলজিস্ট আর ভালো হাসপাতাল বেছে নিলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। এর মধ্যে থাকতে পারে অপারেশনের জায়গায় ইনফেকশন, প্রস্রাবে রক্ত আসা (সাধারণত সাময়িক), মূত্রনালীতে আঘাত, অ্যানেসথেসিয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, এবং পাথর পুরোপুরি না বের হওয়া বা ভবিষ্যতে আবার পাথর হওয়ার সম্ভাবনা। ডাক্তার সাধারণত আগে থেকেই এসব ঝুঁকি সম্পর্কে জানিয়ে দেন এবং প্রয়োজনীয় সেফটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।

অপারেশনের পর কীভাবে দ্রুত সুস্থ হবেন?

অপারেশনের পর কিছু সচেতনতা দ্রুত সুস্থ হতে অনেকটাই সাহায্য করে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রচুর পানি পান করুন (সাধারণত দিনে ২-৩ লিটার পর্যন্ত), কষা খাবার এড়িয়ে সহজপাচ্য খাবার খান, এবং ভারী কাজ, ভারী জিনিস তোলা বা বেশি ঝুঁকে কাজ করা কয়েক সপ্তাহ এড়িয়ে চলুন। ধীরে ধীরে হাঁটা শুরু করুন, দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় শুয়ে বা বসে থাকবেন না, আর ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সব ওষুধ নিয়মিত খান। জ্বর, অতিরিক্ত ব্যথা, প্রচুর রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব, বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

মনোযোগ: Doctorinfobd.com সম্পূর্ণ ফ্রি ডক্টর এপয়েন্টমেন্ট সেবা দিয়ে থাকে। এপয়েন্টমেন্ট বা সিরিয়ালের জন্য কোনো আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ করা হচ্ছে। এই ওয়েবসাইটে ডাক্তারদের তথ্য কোনো নির্দিষ্ট যোগ্যতা, পদবী, বা অভিজ্ঞতার ক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়নি — সর্বশেষ আপডেট হওয়া তথ্যই সবচেয়ে ওপরে দেখানো হয়েছে।

প্রিয় পাঠক, কোনো মন্তব্য বা পরামর্শ থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

প্রিয় ডাক্তার, আপনার তথ্য যোগ, সম্পাদনা, বা সরাতে চাইলে আমাদের জানান।

আপনি যদি ইউরোলজি (Urology) বা মূত্রতন্ত্র ও কিডনি সংক্রান্ত সমস্যার জন্য বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ ডাক্তার খুঁজছেন, আমাদের সম্পূর্ণ তালিকাটি দেখুন: ঢাকার সেরা ইউরোলজি ডাক্তার ও সার্জনদের তালিকা — ২০২৬

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন 


১. ব্লাডার স্টোন কেন হয়?

সাধারণত মূত্র জমে থাকা, বারবার ইনফেকশন, বা প্রোস্টেট/মূত্রনালীর সমস্যার কারণে মূত্রথলিতে খনিজ পদার্থ জমে শক্ত পাথরের মতো গঠন তৈরি হয়।

২. ব্লাডার স্টোনের প্রধান লক্ষণ কী কী?

 প্রস্রাবের সময় ব্যথা ও জ্বালা, প্রস্রাবে রক্ত আসা, বারবার প্রস্রাবের চাপ, এবং ঘনঘন ইনফেকশন (UTI) এর প্রধান লক্ষণ।

৩. ব্লাডার স্টোন অপারেশনে কত খরচ হতে পারে?

 ২০২৬ সালের হিসেবে মাঝারি মানের প্রাইভেট হাসপাতালে এন্ডোস্কোপিক অপারেশনের খরচ সাধারণত ৪০,০০০-৮০,০০০ টাকা, আর হাই-এন্ড হাসপাতালে ৮০,০০০ টাকার বেশিও হতে পারে।

৪. অপারেশনের পর হাসপাতালে কতদিন থাকতে হয়?

এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে সাধারণত ১-২ দিন, আর ওপেন সার্জারির ক্ষেত্রে ৩-৫ দিন পর্যন্ত হাসপাতালে থাকতে হতে পারে।

৫. ব্লাডার স্টোনের জন্য কোন ডাক্তার দেখাব?

 একজন ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার (Urologist) এই সমস্যার মূল চিকিৎসক, যিনি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও অপারেশনের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন।

৬. ডক্টর এপয়েন্টমেন্টের জন্য কি কোনো ফি লাগে?

 না, Doctorinfobd.com সম্পূর্ণ ফ্রি এপয়েন্টমেন্ট সেবা দেয়। সিরিয়াল বা এপয়েন্টমেন্টের জন্য কোনো আর্থিক লেনদেন করার দরকার নেই।

Stay connected with us!

Get all the latest updates easily

No spam. Unsubscribe anytime.