Home / Blog / পিরিয়ডের লক্ষণ বনাম গর্ভাবস্থার লক্ষণ: পার্থক্য কী?
পিরিয়ডের আগে ও গর্ভাবস্থার শুরুর লক্ষণ অনেকটা একই হতে পারে। স্তনে ব্যথা, পেট ব্যথা, ক্লান্তি, মুড পরিবর্তন ও বমিভাবের পার্থক্য এবং কখন প্রেগন্যান্সি টেস্ট করবেন তা জানুন। গর্ভাবস্থার প্রথম লক্ষণ, পিরিয়ডের আগে লক্ষণ, প্রেগন্যান্সির লক্ষণ, মাসিকের লক্ষণ, পিরিয়ড মিস হলে কী করবেন, প্রেগন্যান্সি টেস্ট কখন করতে হয়। পিরিয়ড আসার আগে শরীরে যে পরিবর্তনগুলো হয়, সেগুলোর সঙ্গে গর্ভাবস্থার একেবারে শুরুর দিকের অনেক লক্ষণের মিল রয়েছে। যেমন—স্তনে ব্যথা বা ভারী লাগা, পেট ফাঁপা, ক্লান্তি, মুড পরিবর্তন, পেটের নিচে হালকা ব্যথা এবং খাবারের প্রতি আগ্রহের পরিবর্তন। তাই শুধু লক্ষণ দেখে অনেক সময় বোঝা কঠিন যে পিরিয়ড আসতে চলেছে, নাকি গর্ভধারণ হয়েছে।
তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে পিরিয়ড মিস হওয়া, বমিভাব, প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, খাবারের গন্ধে অস্বস্তি এবং প্রেগন্যান্সি টেস্টের ফলাফল গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা বুঝতে সাহায্য করতে পারে। আবার এসব লক্ষণের কোনোটিই একা গর্ভাবস্থার নিশ্চিত প্রমাণ নয়। NHS বলছে, নিয়মিত মাসিক চক্র থাকলে প্রত্যাশিত সময়ে পিরিয়ড না হওয়া গর্ভাবস্থার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি।
এই লেখায় পিরিয়ডের লক্ষণ বনাম গর্ভাবস্থার লক্ষণ সহজভাবে তুলনা করা হলো, যাতে আপনি লক্ষণগুলো বুঝতে পারেন এবং কখন প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা উচিত সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান।
| লক্ষণ | পিরিয়ডের আগে সাধারণত | গর্ভাবস্থার শুরুতে |
| পেটের নিচে ব্যথা | সাধারণ | হালকা ক্র্যাম্প হতে পারে |
| স্তনে ব্যথা | খুব সাধারণ | খুব সাধারণ |
| ক্লান্তি | হতে পারে | বেশ সাধারণ |
| মুড পরিবর্তন | সাধারণ | হতে পারে |
| পেট ফাঁপা | সাধারণ | হতে পারে |
| বমিভাব | হতে পারে, তবে তুলনামূলক কম | সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি |
| খাবারের প্রতি আকর্ষণ | বাড়তে পারে | আকর্ষণ বা অনীহা হতে পারে |
| গন্ধে সংবেদনশীলতা | সাধারণত প্রধান লক্ষণ নয় | হতে পারে |
| বারবার প্রস্রাব | সাধারণত নয় | হতে পারে |
| পিরিয়ড | সাধারণত নির্ধারিত সময়ে আসে | মিস হতে পারে |
| প্রেগন্যান্সি টেস্ট | নেগেটিভ | পজিটিভ হতে পারে |
মনে রাখতে হবে, এই তালিকা লক্ষণভিত্তিক ধারণা দেওয়ার জন্য, রোগ নির্ণয়ের জন্য নয়। কারণ PMS এবং গর্ভাবস্থার লক্ষণ একে অপরের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যেতে পারে। Mayo Clinic-ও উল্লেখ করে যে স্তনে ব্যথা ও ক্লান্তির মতো উপসর্গ গর্ভাবস্থা ছাড়াও পিরিয়ড শুরু হওয়ার কারণে হতে পারে।
পিরিয়ডের ক্ষেত্রে: পিরিয়ডের আগে পেটের নিচে ব্যথা বা ক্র্যাম্প হওয়া খুবই পরিচিত লক্ষণ। PMS-এর শারীরিক লক্ষণের মধ্যে abdominal pain বা পেটের ব্যথা রয়েছে।
গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে: অন্যদিকে, গর্ভাবস্থার একেবারে শুরুর দিকেও কিছু নারীর হালকা পেটের ক্র্যাম্প হতে পারে। তাই শুধু পেট ব্যথা হচ্ছে বলে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করা যায় না।
পিরিয়ডের ক্ষেত্রে: পেটের নিচে টান, ব্যথা বা ভারী অনুভূতি পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগে দেখা দিতে পারে এবং পিরিয়ড শুরু হলে বা তার পর ধীরে ধীরে কমতে পারে।
গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে: হালকা ক্র্যাম্প থাকতে পারে, কিন্তু সাধারণত এর সঙ্গে অন্য লক্ষণও থাকতে পারে—যেমন পিরিয়ড মিস হওয়া, স্তনে পরিবর্তন, বমিভাব বা অতিরিক্ত ক্লান্তি।
তীব্র বা একপাশে বেশি পেটব্যথা, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা থাকলে, স্বাভাবিক PMS ধরে নেওয়া উচিত নয়। NHS অনুযায়ী গর্ভাবস্থার সঙ্গে অস্বাভাবিক রক্তপাত বা পেটব্যথা থাকলে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া জরুরি হতে পারে।
শুধু স্তনে ব্যথা দেখে বোঝা সম্ভব নয়। তবে যদি আপনার নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে পিরিয়ডের আগে একই ধরনের স্তন ব্যথা হয় এবং পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর তা কমে যায়, তাহলে সেটি PMS-এর সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অন্যদিকে, পিরিয়ড মিস হওয়ার পর স্তনে নতুন বা অস্বাভাবিক পরিবর্তনের সঙ্গে অন্যান্য গর্ভাবস্থার লক্ষণ দেখা দিলে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা যুক্তিযুক্ত।
পিরিয়ডের আগে ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা বা বেশি ঘুমানোর প্রবণতা PMS-এর অংশ হতে পারে। ACOG-এর তথ্য অনুযায়ী PMS-এর শারীরিক ও মানসিক লক্ষণের মধ্যে fatigue বা ক্লান্তি এবং ঘুমের পরিবর্তন রয়েছে।
গর্ভাবস্থার প্রথম দিকেও ক্লান্তি খুব সাধারণ। NHS বলছে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহে অনেকের ক্লান্তি বা অতিরিক্ত অবসাদ অনুভূত হতে পারে।
তাই এখানে আবারও একই সমস্যা—ক্লান্তি একা গর্ভাবস্থার প্রমাণ নয়।
যদি আপনার পিরিয়ডের আগে নিয়মিত ক্লান্তি হয়, সেটি PMS হতে পারে। কিন্তু পিরিয়ড মিস হওয়ার পর অস্বাভাবিকভাবে বেশি ক্লান্তি, বমিভাব, স্তনে পরিবর্তন ইত্যাদি একসঙ্গে দেখা দিলে গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা বিবেচনা করা উচিত।
পিরিয়ডের আগে কিছু মানুষের বমিভাব বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে। তবে বমিভাব ও বমি গর্ভাবস্থার পরিচিত লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে।
NHS-এর তথ্য অনুযায়ী গর্ভাবস্থায় বমিভাব বা বমি দিনের যেকোনো সময় হতে পারে এবং অনেকের ক্ষেত্রে এটি প্রায় ৪–৬ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় শুরু হয়।
Mayo Clinic-ও বলছে, pregnancy-related nausea বা morning sickness দিনের যেকোনো সময় হতে পারে এবং এটি সাধারণত গর্ভাবস্থার এক থেকে দুই মাসের মধ্যে শুরু হতে পারে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সব গর্ভবতী ব্যক্তির বমিভাব হয় না। আবার বমিভাব মানেই গর্ভাবস্থা নয়; পেটের সমস্যা, সংক্রমণ বা অন্যান্য কারণেও বমিভাব হতে পারে।
পিরিয়ডের আগে খাবারের প্রতি আগ্রহ বা craving পরিবর্তিত হওয়া PMS-এর একটি পরিচিত লক্ষণ। ACOG PMS-এর লক্ষণের মধ্যে appetite changes ও food cravings উল্লেখ করেছে।
গর্ভাবস্থাতেও খাবারের প্রতি আকর্ষণ বদলে যেতে পারে। NHS অনুযায়ী গর্ভাবস্থার শুরুতে কিছু খাবারের প্রতি নতুন করে আকর্ষণ তৈরি হতে পারে, আবার আগে পছন্দের খাবারের প্রতিও অনীহা দেখা দিতে পারে। কিছু মানুষের মুখে অদ্ভুত বা metallic taste অনুভূত হতে পারে এবং গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যেতে পারে।
তাই শুধু কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেতে ইচ্ছা করছে বা কোনো খাবার ভালো লাগছে না—এটিকে গর্ভাবস্থার নিশ্চিত লক্ষণ হিসেবে ধরা ঠিক নয়।
গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে কিছু মানুষের গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যেতে পারে। রান্নার গন্ধ, কফি, পারফিউম বা অন্য কোনো পরিচিত গন্ধ হঠাৎ বিরক্তিকর লাগতে পারে। NHS গর্ভাবস্থার সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে increased sensitivity to smells উল্লেখ করেছে।
PMS-এর সাধারণ তালিকায় এই লক্ষণটি সাধারণত প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে থাকে না। তাই পিরিয়ড মিস হওয়ার সঙ্গে নতুন করে গন্ধে অস্বস্তি ও বমিভাব শুরু হলে প্রেগন্যান্সি টেস্টের কথা বিবেচনা করা যায়।
তবে এটিও মনে রাখতে হবে—গন্ধে অস্বস্তি অন্য কারণেও হতে পারে।
বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হওয়া গর্ভাবস্থায় দেখা দিতে পারে। NHS-এর pregnancy symptoms তথ্য অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বার প্রস্রাব লাগতে পারে, এমনকি রাতে ঘুম থেকেও উঠতে হতে পারে।
অন্যদিকে, এটি PMS-এর সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ নয়।
তবে ঘন ঘন প্রস্রাব হলে শুধু গর্ভাবস্থাই নয়, বেশি পানি পান, মূত্রনালির সংক্রমণ বা অন্যান্য কারণও বিবেচনা করতে হয়। প্রস্রাবের সময় জ্বালা, ব্যথা বা জ্বর থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
পেট ফাঁপা পিরিয়ডের আগের একটি খুব সাধারণ সমস্যা। NHS PMS-এর লক্ষণের মধ্যে bloating ও cramping উল্লেখ করেছে।
গর্ভাবস্থার শুরুতেও হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হজমের পরিবর্তন, পেট ভারী লাগা বা bloating হতে পারে।
তাই ব্লোটিং একা কোনো নির্ভরযোগ্য pregnancy sign নয়।
আপনার যদি প্রতি মাসে পিরিয়ডের আগে পেট ফাঁপে এবং পিরিয়ড শুরু হলে তা কমে যায়, সেটি PMS-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু পিরিয়ড মিস হওয়ার সঙ্গে অন্য গর্ভাবস্থার লক্ষণ যুক্ত হলে পরীক্ষা করা উচিত।
PMS-এর অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো mood changes। বিরক্তি, উদ্বেগ, মন খারাপ, কান্না পাওয়া, রাগ বা আবেগপ্রবণতা দেখা দিতে পারে। ACOG PMS-এর emotional symptoms হিসেবে irritability, anxiety, crying spells, depression এবং concentration problems-এর কথা উল্লেখ করেছে।
গর্ভাবস্থাতেও হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মেজাজে পরিবর্তন হতে পারে। NHS বলছে, গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে হরমোনের পরিবর্তন ক্লান্তি, অসুস্থ লাগা এবং emotional changes-এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
অতএব, মুড পরিবর্তন দেখে পিরিয়ড নাকি গর্ভাবস্থা—এটি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
নিয়মিত মাসিক চক্র থাকলে পিরিয়ড মিস হওয়া গর্ভাবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক লক্ষণ। NHS অনুযায়ী, নিয়মিত মাসিক হলে missed period গর্ভাবস্থার earliest and most reliable signs-এর একটি।
তবে পিরিয়ড দেরি হওয়ার অর্থ সবসময় গর্ভাবস্থা নয়। মানসিক চাপ, ওজনের বড় পরিবর্তন, অতিরিক্ত ব্যায়াম, হরমোনাল contraception, PCOS-জাতীয় সমস্যা, থাইরয়েডের সমস্যা এবং অন্যান্য কারণেও পিরিয়ড দেরি বা বন্ধ হতে পারে।
তাই যদি যৌনসম্পর্ক হয়ে থাকে এবং পিরিয়ড নির্ধারিত সময়ে না আসে, সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা।
কিছু ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে অল্প রক্তপাত বা spotting হতে পারে। NHS এটিকে সম্ভাব্য early pregnancy bleeding হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এটি সাধারণ পিরিয়ডের মতো নাও হতে পারে। তবে রক্তপাতের ধরন দেখে নিজে থেকে নিশ্চিত হওয়া ঠিক নয় যে এটি implantation bleeding নাকি পিরিয়ড।
বিশেষ করে গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা থাকলে এবং রক্তপাতের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, একপাশে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া উচিত। Ectopic pregnancy-এর ক্ষেত্রেও এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
লক্ষণগুলোকে মোটামুটি তিন ভাগে দেখা যায়।
PMS সাধারণত পিরিয়ডের আগে দেখা দেয় এবং পিরিয়ড শুরু হলে উপসর্গ কমে যেতে পারে। NHS ও ACOG উভয়ই PMS-এর লক্ষণকে মাসিক চক্রের নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তবে এগুলোর কোনোটিই একা নিশ্চিত প্রমাণ নয়। গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে pregnancy test সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি।
যদি আপনার পিরিয়ড মিস হয়ে থাকে এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে, সাধারণত পিরিয়ড মিস হওয়ার প্রথম দিন থেকে home pregnancy test করা যায়। NHS বলছে, বেশিরভাগ pregnancy test missed period-এর প্রথম দিন থেকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
আপনার পরবর্তী পিরিয়ড কবে হওয়ার কথা তা জানা না থাকলে, NHS অন্তত শেষবার সুরক্ষাহীন যৌনসম্পর্কের ২১ দিন পর pregnancy test করার পরামর্শ দেয়।
খুব তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করলে false-negative হতে পারে। Mayo Clinic অনুযায়ী, পিরিয়ড মিস হওয়ার পর পরীক্ষা করলে ফলাফল বেশি নির্ভরযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নেগেটিভ ফল পাওয়ার পরও পিরিয়ড না এলে কয়েক দিন পরে বা প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে আবার পরীক্ষা করা যেতে পারে।
NHS-ও বলছে, pregnancy test নেগেটিভ হলেও গর্ভাবস্থার সন্দেহ থাকলে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করে আবার পরীক্ষা করা যেতে পারে।
না। গর্ভাবস্থা পিরিয়ড মিস হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলেও এটি একমাত্র কারণ নয়। Stress, হঠাৎ ওজন কমা বা বাড়া, অতিরিক্ত ব্যায়াম, breastfeeding, hormonal contraception, PCOS এবং thyroid-এর সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে মাসিক দেরি হতে পারে।
তাই পিরিয়ড মিস হলে প্রথমে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে pregnancy test করা ভালো। ফলাফল নেগেটিভ হওয়ার পরও যদি বারবার পিরিয়ড না আসে, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
শুধু সাধারণ PMS বা pregnancy symptoms থাকলে সবসময় জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা থাকলে এবং নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া উচিত:
NHS-এর তথ্য অনুযায়ী, ectopic pregnancy-তে পিরিয়ড মিস হওয়ার সঙ্গে অস্বাভাবিক রক্তপাত ও পেটব্যথা থাকতে পারে।
পিরিয়ডের আগে:
ক্র্যাম্প + পেট ফাঁপা + স্তনে ব্যথা + মুড পরিবর্তন + খাবারের craving → PMS হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
পিরিয়ড মিস হওয়ার পর:
মিসড পিরিয়ড + বমিভাব + গন্ধে সংবেদনশীলতা + বারবার প্রস্রাব + স্তনের পরিবর্তন → গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা বিবেচনা করুন।
নিশ্চিত হতে:
লক্ষণ অনুমান করার বদলে সঠিক সময়ে pregnancy test করুন।
পিরিয়ডের লক্ষণ বনাম গর্ভাবস্থার লক্ষণ তুলনা করলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দুই অবস্থার লক্ষণ অনেকটাই একই হতে পারে। স্তনে ব্যথা, ক্লান্তি, পেট ফাঁপা, ক্র্যাম্প, খাবারের পরিবর্তন এবং মুড পরিবর্তন PMS ও early pregnancy উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে।
তবে নিয়মিত মাসিক চক্রের ক্ষেত্রে পিরিয়ড মিস হওয়া গর্ভাবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সংকেত। এর সঙ্গে বমিভাব, গন্ধে সংবেদনশীলতা, খাবারের প্রতি অনীহা বা craving এবং বারবার প্রস্রাবের মতো লক্ষণ যোগ হলে pregnancy test করার কারণ আরও জোরালো হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শুধু লক্ষণ দেখে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করা যায় না। সঠিক সময়ে করা home pregnancy test গর্ভাবস্থা সম্পর্কে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য তথ্য দেয়। পিরিয়ড মিস হওয়ার প্রথম দিন থেকে অধিকাংশ pregnancy test ব্যবহার করা যায়; খুব তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করলে নেগেটিভ ফল ভুল হতে পারে।
যদি টেস্ট পজিটিভ হয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর টেস্ট নেগেটিভ হলেও পিরিয়ড না এলে কয়েক দিন পরে পুনরায় পরীক্ষা করা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
17 Aug
17 Aug
17 Aug
17 Aug
Get all the latest updates easily